বুধবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১২

তোমাকে ছাড়া (নীল কাব্য ১২)


তোমাকে ছাড়া 
নীল

একাকী হেটে চলা নির্জন রাস্তায়,
অতিতের কথা ভেবে চলছি, যার গন্তব অজানা।
বিষাদময় অতিত ভেবে কোলাহলেও নিজেকে একা লাগে!!
মনে পরে গত হওয়া তোমার কথা, তোমার চলে যাওয়ার কথা।
তোমার শুন্যতা আমার হৃদয় করেছে খণ্ডিত
যেমনটা হয় চৈত্রের খরতাপে ফসলী জমির বুক
অথবা হাতুড়ের ইট বাঙ্গা কংক্রিট।
আমায় অশ্রু সিক্ত করেছে তোমার শুন্যতা
যেমন করে পাহারিকা গাত্র বেয়ে ঝরে ঝর্ণাধারা
অথবা আকশ থেকে অঝরে ঝরে বৃষ্টিধারা।
এখন যখন আধার নামে, চারদিকে নিকশ কাল অন্ধকার
আমি তখন জানলা খুলে দৃষ্টি রাখি কাল আকশে
আমার কাছে আমি জানতে চাই আমার ভুল
কি এবং কেন......?
তোমাকে ছাড়া সময়টা আমার এমনি কাটছে।

আমার হাশি-সুখ-আনন্দ আজ নিষিদ্ধ পল্লির সদস্য
তাদের লোকালয়ে খুঁজে পাইনা, যা পাই তাতে থাকে
নেশা লাগানো কষ্ট- সে আমাকে হজম করছে ইচ্ছেমত।
এতো যন্ত্রণাতেও যখন আমি আমাকে খুঁজে পাই
তখন দেখি আমার আমি তোমাকে নিয়ে ভাবছে
তোমার সাথে কাটানো প্রহর মনে করছে
তোমাকে ছাড়া আমার সময়টা এমনি কাটছে।




বুধবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১২

তোমার জন্যে বেঁচে থাকা (নীল কাব্য ১১)


তোমার জন্যে বেঁচে থাকা
নীল

জীবনের বেঁচে থাকার সব মুহূর্ত আজ অর্থহীন!
ভাল লাগার সমস্ত কিছু আজ মূল্যহীন!
জানতে চাও কেন?
কারন- আমার বেঁচে থাকা, ভাল লাগা আর
আমার হৃদয় নিগ্রানু ভালবাসা তোমার জন্যে।
তোমার জন্যেই এই জীর্ণ ধরিত্রীতে আমার ছুটে চলা
আর তোমার জন্যেই আমার বেঁচে থাকা।

তুমি আমার বেঁচে থাকার শেষ আশা, আমার অন্তিম আবস;
শুন্য আকশে এক ফালি চাঁদের আলো বা
মরুর বুক শীতল করা ঐ গাছের থেকেও বেশি কিছু তুমি।
তুমি হাজার ঝিনুক খোজে পাওয়া মুক্তার
থেকেও বেশি কিছু আমার কাছে
তুমি আমার আদি-অন্ত উদয়-অস্ত।
মন দরজার খিল আজ তোমার তরে খুলে দিয়েছি,
আত্মার গহীনে পালঙ্ক পেতেছি- অপেক্ষা শুধু তোমারই জন্যে।
মহাকালের যাত্রায় তোমাকে আমার করে নিয়েছি,
জানি তুমি সহ এই তরী তীরে নুঙ্গর করতে সহস্র যাতনা
বিনিদ্র রজনী আর অসংখ্য প্রতিকুল ঢেউ আমাকে পাড়ি দিতে হবে;
এর সব আমি উত্রে যাব শুধু তোমার আশায়;
লক্ষ বাঁধার কাছেও আমি অজেয় হবো শুধু তোমার জন্যে।

আমি বেঁচে আছি শুধু এবং শুধুই তোমার জন্যে,
‘তুমি’ আর ‘আমি’ এই দুইকে সন্ধি করে ‘আমরা’ করার
জন্যে আমার বেঁচে থাকা। এই বেঁচে থাকা
অর্থপূর্ণ হবে তোমার ভালবাসাতে; ঈশ্বরের নামে বলছি-
তোমার একটু চাওয়াতে’ই আমরা উড়তে পাড়ি একসাথে,
বসতে পাড়ি এক ডালে, থাকতে পাড়ি এক নীড়ে,
তুমি আমাকে আর আমি তোমাকে এক ডুরে বাঁধতে পাড়ি ভালবেসে,
শুধু ভালবাসাই থাকবে আমাদের মাঝে যা একান্তই আমাদের।

আমি জানিনা কেন তোমাকে আমার এত প্রয়োজন,
কেন মনের পবন তোমার পালে লাগে, শুধু জানি-
তুমি আমার জন্যে বাঁচবে আমি বাঁচব তোমার জন্যে;
কারন- আমি তোমার জন্যেই বেঁচে আছি আর
তোমার জন্যেই বাঁচব শুধু তোমাকে ভালবাসি বলে।

রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১২

নীলাকে যেদিন প্রথম দেখি ( নীল কাব্য ১০)


নীলাকে যেদিন প্রথম দেখি
নীল


প্রতিমার সাজে তুমি এসেছিলে আমার চোখের প্রান্তে
আমার উন্মুক্ত নয়ন জুড়া তোমাকে দেখে অবাক;
বিস্মিত অপলক দৃষ্টি শুধু তোমাতে’ই ছিল।
সৃষ্টির সকল রুপ-লাবণ্যে তুমি যেন আঁকা
অসীম রঙের মিশেলে চিত্রিত তোমার কায়া।
সোনালী ধানের মত তোমার বর্ণিল রূপ
আর রেশম কোমল বদনখানি
আমাকে উন্মাদ করেছে।
হরিণীর মত অপরুপ অক্ষি-যুগলের
খানিক দৃষ্টি তুমি আমার উপর রেখেছিলে
সেই প্রথম বেলাতেই।
তোমার নয়ন তারা কাজল-দিঘির
গভীর জলের মত গভীর
যেখানে বিনাশ্রমে আমাকে ডুভিয়ে নিলে।
অধরে তোমার গুলাপের পাপড়ির ভাজ
গুলাপের মতই রং
যা দেখে তনয়ারা হবে হিংসা-কাতর
আর পুং-অধর আলতোভাবে সঙ্গঘৃষ্ট হতে চাইবে;
আমি’ও এর বেতিক্রম হতে পারিনি।

তোমাকে দেখা সেই প্রথম দিন থেকে
জন্ম নেয়া আবেগ, যা আমি তখন বুঝিনি
তা আজ পবিত্র ভালবাসা হয়ে গেছে
আর তা আজও বেঁচে আছে আমার অন্তরালে।
হয়তোবা ধরা নামের তাসের ঘরে আমি থাকব না
কিন্তু নীলা- তোমার জন্য জন্ম নেয়া ভালবাসা
বেঁচে থাকবে অনন্ত কাল। মহাকালের জাত্রায়
তুমি আমার ভালবাসা আগলে রেখ;
যাতে এই আগলে রাখা ভালবাসা মহাপ্রলয়ের
পরের জগতেও তোমাকে আমার করে দেয়।

তোমাকে নিয়ে ভাবতে ভালবাসি (নীল কাব্য ৯)


তোমাকে নিয়ে ভাবতে ভালবাসি
নীল

অন্তরালে ভাবি তোমার কথা, হৃদয়ে যে তোমারি নাম লিখা;
নিশি আমার কাল হয়ে যায়, বিরাম নায় মনের...
অভিরাম ভেবে চলা নীল আকশের অম্বরি যে ভাবে ভাসে।
মনের উঠুনে শিতল পাটিতে, আর মনের ভিতরের
গাছের ডালে তোমার বাধা পিঁড়ির দুলনাতে বসে
পশ্চিমা পবনে শিতল হয়ে দুলছ তুমি।
অলিক এমন অনেক চিন্তায় সরগরম আমার শির!
অজানা এক সময়ে আমার চিন্তা শেষ হবে,
তখন তোমাকে আর দেখা হবে না। সেই দিনকে
বরনের ডাল আমি সাজিয়ে রেখেছি, তোমাকে নিয়ে
আমার অলিক স্বপ্ন শেষ হলে আমি বরন করে নিব সেই দিনের মৃত্যু।

শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১২

তোমাকে ভালবাসব (নীল কাব্য ৮)


তোমাকে ভালবাসব
নীল

তোমাকে আমি কতো ভালোবাসি বলতে পারবনা,
আমার কাছে যদি প্রশ্ন করা হই:
তোমার জন্য আমি কতোখানি ভালবাসা জমা রেখেছি,
আমার হৃদয়ের কতটা জায়গা তোমার নাম লিখা অথবা,
অন্য আরো কোনো প্রশ্ন তোমাকে নিয়ে; আমি উত্তর করতে পারবনা।
আমি শুধু জানি-
আমি তোমাকে ভালোবাসবো
শিশির ভেজা শিতের সকালে,
চৈত্রের তপ্ত দুপুরে,
আশ্বিনের ঝিরি ঝিরি বারি বরষণে।
প্রভাতের দক্ষিণা বাতাসে,
গুধুলি লগণে অস্তিমিত সূর্যের বর্ণিল আলোতে,
ঝিঁঝিঁ ডাকা আধারি নিশিতে-
আমি তোমাকে পরাণ উজাড় করে ভালবাসবো।
প্রকৃতির প্রতি রুপে, প্রতি সাঁজে
আমি তোমাকে দেখব আর, ভালবাসবো।
শুধু বলতে পারবনা আমার ভালবাসার পরিমান।

সোমবার, ৫ নভেম্বর, ২০১২

নীলার কাছে প্রশ্ন (নীল কাব্য ৭)

নীলার কাছে প্রশ্ন
নীল

কেমন আছ? জানি বলবে না।
যদিও বা বল, মনে থাকবে তোমার অকথ্য গালি,
অবজ্ঞার সুরে ছুরে দিবে উত্তর।

কি করছ? জানি এড়িয়ে যাবে।
তোমার সময় হবেনা উত্তর করার মতো,
নাহয় আমাকে উত্তর করা অর্থহীন তোমার কাছে।

ভালো আছে সবাই? জানি এবার তুমি বিরক্তই হবে তুমি।
যদি বিরক্তি না আসে তবে রাগের অনল জলছে নিশ্চিত,
সে অনলে জ্বালাবে আমায় বলে ভাবছ।

আচ্ছা, আমি কি ভুল জানলাম?
কেন আমি এমন ভাবি, অন্য রকম কেন হইনা আমার ভাবনা?
সেও জানতে চাইবে না তুমি জানি।
তোমার হয়তো জানার দরকার নেয়,
তবে আমাকে বলতে হবে- বলতে দাউ:
তবে আজ বলছিনে, তুলে রাখলাম সামনের কোনো এক সময়ের জন্য।

কে ছিলেম আমি,
তোমার মনের কোথায় অধিষ্ঠিত ছিলাম আমি,
তোমার হৃদয়ের কোন জানালায়
আমি আলো হয়ে দিতাম উকি,
তোমার মন মন্দিরে একদিনে কত বার আমি ঘন্টি বাজাতাম-
এর সবকিছু তুমি যেদিন ভুলে যাবে,
সেদিন বলব, সব বলবো আমি গল্প করে।

আমি তোমাকে বলব- তোমাকে না পাওয়ার গল্প,
তোমাকে বক্ষে পেয়েও জড়িয়ে না ধরার কথা আমি বলব।
আমি বলব- কিভাবে তুমি আমাকে জীবিত রেখে হত্যা করেছ,
কিভাবে আমার হৃদয়ের রক্ত ক্ষরণ বেড়েছে তোমার জন্যে,
আমার অস্তি-মজ্জা কিভাবে নিমজ্জিত হয়েছে তোমার অপেক্ষায়,
আমার চোখের দৃষ্টি কেন নিঃশেষ হয়েছে-
তার সবই আমি বলব।

আমি বলব- নরক যন্ত্রণার কথা যা পেয়েছি এই মর্তলুকে,
জীবন আমার কি ভাবে পথের ধুলার মতো উদ্বাস্তু,
কিভাবে আজ আমি বেদুইন যাযাবর-
খুলে বলবো সব কিছু,
বাদ যাবে না একটি বর্ণও।

সব শেষে তোমার কাছে আমার শেষ প্রশ্ন-
নীলা, তুমি শুনবেতো?

বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১২

চিঠি (নীল কাব্য ৬)

চিঠি
নীল

প্রিয় নীলা,
আন্তঃআনবিক সম্পর্কে বাধা পরেছি আমি;
মনের অণুগুলো একটা টান অনুভব করছে,
মনে হচ্ছে, আমার ভালো'লাগার পরিসর
ছোট হচ্ছে দিন-কে-দিন। আগে যা মহাকাল বিস্তৃত ছিল,
আমার সেই ভালো লাগা আজ তুমি কেন্দ্রিক।

নতুন একটা বল ক্রিয়া করছে আমার মাঝে;
আত্মা কেন্দ্রিক বল বললে ভুল হবেনা।
বুঝতে পারছি, আমার মাঝে যে মহাকর্ষ বল ছিল
তা আজ অভিকর্ষ বলে রূপ নিয়েছে।
আর তাই তোমাকে অনেক কাছে
আমার হৃদয়ের দুয়ারে অনুভব করছি।

আমার মনে আমি দোলন অনুভব করছি;
পেন্ডুলামের মত দোলছে আমার মন,
এপাশ-ওপাশ, ওপাশ-এপাশ করছে,
শুধু কেন্দ্রে স্থির হচ্ছে না। একটু সময় নিয়ে
পেন্ডুলাম দোলোকের কেন্দ্রে যেমন স্থির হয়,
আমার দোদুল্লমান মনও স্থির হবে,
আর সেই স্থির মনের কেন্দ্র হবে তুমি।

আর পরিশেষে আমি তোমাকে জানাতে চাই,
আমি একটা নতুন সম্পর্কাবস্থা ঠিক করেছি;
তুমি আর আমি মিলে সমযোজি সম্পর্ক করব।
আমাদের কোনো ঋণ থাকবে না, আমাদের
কেন্দ্র হবে এক। যেখানে আমাদের স্বপ্ন সুখ
আমারদের ভালবাসা থাকবে;
যা শুধু তোমার জন্যে আর আমার জন্যে।

ইতি,
নীল

শহুরে জীবন (নীল কাব্য ৫)

শহুরে জীবন
নীল

যান্ত্রিক নগরীতে জীবন অচল হয়ে যাচ্ছে,
চারদিকে শব্দ কূলাহল, বিরক্তিকর পরিবেশ।
গাছের পাতা ঝরতে দেখিনা কোথাও,
সবুজের লেশ মাত্র নেয়।
গাছের ছায়াতলে এখানে কেউ ক্লান্তি নিবৃত করেনা;
ইটে গড়া অট্টালিকা এখানে তাদের শীতল করে।
আর পাখিরা এই যান্ত্রিক শহর ছেড়েছে,
শহুরে জনপদ থেকে তাদের বসবাস অনেক দূরে,
তারা আর শহরে আসেনা, ডাকেনা, উড়েনা।
যদিও গুটি কয়েক কাকের দেখা এখনো মেলে,
তাও থাকতো না যদিনা ডাস্টবিন ছেড়ে
আবর্জনা রাস্তা দখল না করতো।
সব কিছুর জন্যে নগর চালক ধন্যবাদ পেতে পারেন,
ধন্যবাদ আপনাকে যান্ত্রিক হওয়া মানুষের পক্ষ থেকে!

বুধবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১২

আর্তনাদ (নীল কাব্য ৪)

আর্তনাদ
নীল

জীবনটা যদি পেন্সিলে লেখা কাগজ হত,
আমি বাঁচার আশা করতাম।
আমার কৃত সব ভুল, জীবনের মন্দ গল্প,
সব মুছে দিতাম ইরেজার দিয়ে।
জীবন খাতার অসীম খাতায়,
ভুলের ব্যাখ্যা প্রতি পাতায়,
আমি জানি না, আমার নিয়ন্ত্রক জানেন,
তিনিই জানেন ভুলের পরিমান কত!

খানিকটা তোমার জানা হলো আজ,
আর এটাই তোমার সয্য সীমা অতিক্রম করলো,
যে কারণে তুমি নিজেকে গগনের তারা করে নিলে।
তুমি কি বলতে পারবে,
আমার জীবন কেন পেন্সিলে লেখা কাগজ হলোনা?
আফসোস! আমার ভুলগুলো আর মুছা হলোনা।

শতবার চেয়েও পবিত্র হতে পারলাম না,
আমার বাঁচার আশা তাই ক্ষীণ হয়ে আসছে,
মরণ চোখের সামনে খেলা করছে,
যেকোনো সময় সে জয় লাভ করবে।

আমি লজ্জিত অপদস্ত মস্তকে তা দেখছি আর ভাবছি,
ভুল করা জীবন খাতা
আর তোমার অনন্ত যাত্রা।
তোমার কাছে করা ভুলগুলো আর মুছা হলোনা,
এই ভেবেই কষ্ট পাচ্ছি, আর কষ্ট পাচ্ছি-
জীবন কেন পেন্সিলে লেখা কাগজ হলো না।

নুতন পাখি (নীল কাব্য ৩)

নুতন পাখি
নীল

রোমেল, কোথাও যাবি নাকি?
ও, তাহলে বস। একটা গল্প বলি।
"একটা রাজ্যে ছিল অনেক পাখি,
সব পাখি একসাথে কত্তো সুখী!
পাখির রাজ্যে একটা প্রাসাদ ছিল,
রাজা পাখি, রানী পাখি;
উজির পাখি, নজির পাখি;
সাধারণ পাখি আর সাথে কিছু
ফালতু পাখি।"

রোমেল: এই, ফালতু পাখি মানে?

"শুননা, একটা পাখি হটাত করে
আসল উড়ে করলো বাসা।
সব পাখিদের একটি পাখি,
দেখল তারে বাধলো আশা।
নতুন পাখি সময় করে,
রাজ্যটাতে বেড়ায় ঘুরে।
সব পাখিদের কিছু পাখি,
আর তাদের সাথে নুতন পাখি,
একসাথে এক দলে,
দেখতে কিজে লাগচিলোরে!
আচম্কায় হল কি জানিস?"

রোমেল: হুম!

"ঐযে, গুটি কয়েক ফালতু পাখি!
তাদের আর শয়ছে নাকি।
নুতন পাখির দলটাকে'রে
বেধে দিল নাটাই ডুরে,
আর কি করে পাখি গুলো?
যন্ত্রনাত সবে শুরু হলো।
নুতন পাখি ভদ্র করে 
কত'যে নিন্দিলো তারে!
ফালতু পাখি ফালতু বটে,
সরম লাজের মাথা কাটে।
হজম করে নিন্দা গুলো,
নুতন ফন্দি করলো শুরু।
রাজ্যের যত পাখি আছে,
সব পাখিরে মারলো ত্রাসে।"

রোমেল: ফালতু দেখি মহা ফাজিল!

"তবে আর বলছি কিরে!
মনে আছে, আশা বাধা পাখির কথা?
তার বেলাতে সবই বৃথা।
ফালতু পাখি সবার মত,
ডাকলো তারে নিজের ঘরে।
সে কতোকি বুঝাল তারে।

ফালতু পাখির কথা শুনে,
পাখিটার জেদ গেল বেড়ে।
রাজ্যে যে রাজা আছে,
ফালতু পাখি কি তার কাছে?
আর তাই পাখিটা স্বপ্ন দেখে...........
...............................................
..............................................."

রোমেল: কি স্বপ্ন?

"আর একদিন.........।"




মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১২

ভাড়াটে কবি (নীল কাব্য ২)

ভাড়াটে কবি
নীল

"বাবু,
একটু বুঝতে চেষ্টা করেন,
এখন আমি কবিতা লেখার মুডে নেই।
দেখতে পাচ্ছেন না, 
শত চেষ্টা করছি, খাতার পাতা শেষ হচ্ছে,
মাথার চুল টানছি, কলমের নিপ ভাংছে।
তবুও পারছিনা! আপনি বরং আমাকে পেমেন্টটা করে দিন,
আমি কালই আপনাকে কবিতাটা লিখে দিব।
লেখকের জায়গায় আপনার নাম থাকবে নিশ্চিত,
ইহা ভুল হইবার নয়"।

"অনেক বুঝেছি, আর পারবো না।
তুমি বেটা ফন্দিবাজ, 
যে কবিতা আমার জন্যে লিখা, বিনোদের জন্য কিনা সেই একই কবিতা!
কি ঝামেলায় পরেছি তোমার জন্য তার খেয়াল আছে?
ঠিক আছে,
আমি যাচ্ছি, অন্য কাউকে দিয়ে লেখিয়ে নেবো।
তোমার কাছে আর হচ্ছে না"!

"প্লীজ, এমন করে বলবেন না।
ছেলেটার খুব অসুখ করেছে,
রান্না-বান্না নেই আজ তিনদিন হলো,
বউ বকে একদিকে,
অন্যদিকে প্রকাশক ফিড়িয়ে দিচ্ছে,
আমি নাকি লেখায় আনাড়ি !
তাই এখন আপনি কবিতার প্যামেন্টটা না করলে............."

"না হলে কি"?

"আচ্ছা, এই নিন বাবু আপনার কবিতা।
আর একটু,
আপনার নামটা লিখতে ভুলে গেছি! আর হবেনা।
অগ্রকান্ত ( কোনো এক বিখ্যাত কবি )"।

"এই নাউ, এবার খুশি?
তুমি বাপু পাড় বটে!"

"আপনাদের দয়া"। 

জীবন কাব্য (নীল কাব্য ১)

জীবন কাব্য
নীল

আমি কবি নই, তবুও আমার জীবন কাব্যিক,
এই জন্যে আমাকে কবি হতে হবে তাও নয়।
আমার জীবন লিখা নিশ্চয় কোনো কবি লিখেছে, আর আমি
আমি সেই লিখার মানচিত্রে ভ্রমন করছি মাত্র।
আমার কোনো সাধ্য নেই মানচিত্র অতিক্রম করার,
জীবন ভাগ্য মরণ ভাগ্য কবির নিজের হাতে লিখা।
তবুও ইচ্ছে হয়, কবির লিখা অতিক্রম করার!
যদি পারতাম আকাশটাকে বাড়ি বানাতাম,
পাখিটাকে গান শেখাতাম, বা নিজেই পাখির গান করতাম।
দিবাকর দূরে ঠেলে শশীকে আপন করতাম,
ওপারের ডাকে সাড়াহীন থেকে এই ধরাতে রয়ে যেতাম।
এসব আমি পারব না, শুধু আমার জীবন লিখায় নেই বলে।
কবি, আমার কবি, মহাজাগতিক কবি,
তোমাকে ধন্যবাদ এবং আমি কৃত্তজ্ঞ
আমাকে এই অপরূপা ধরিত্রীর বুকে ভ্রমণের সুযোগ দেয়ার জন্যে,
ওপারে তোমার আরশ পাব এই আশায় জীবন মায়া ছাড়তে চাই।
কবি তোমার প্রশংসা করি আর আমাকে ভালো রেখো।

রবিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১২

যে দুখের নাই কোনো সীমানা

গতকাল রাতে (১৪/১০/২০১২) এক অনাকাঙ্খিত ঘটনার মুখোমুখি হই। অনেক কষ্ট পেয়েছি। কষ্ট পেলে যা করে তাই করেছি। তবে বেশ কিছুক্ষণ পর নিজেকে সামলে নিয়েছি। কষ্ট যখন খুব বেশি লাগছিল তখন আম্মার কথা মনে পরছিল। তবে আপন জনের বা আপনজনের ষড়যন্ত্রে যখন কষ্ট পেতে হই তার কোনো সীমা থাকে না।

পথ চলা আজ হলো শুরু

আজ থেকে শুরু করলাম নুতন করে নুতন ডায়রি লিখা। যদিও এটা  অনলাইন ডায়রি তুবুও ভালো লাগছে এই ভেবে যে আমার জীবনের বেক্ত অবেক্ত সব কথা এখানে থাকবে। মাঝে মাঝে কবিতা লিখি, প্রকাশ করার জায়গা পেতামনা। কোনো দৈনিক নিশ্চয় আমার লিখা চাপাবেনা। এখানে আমার অবাদ স্বাধীনতা, বানান ভুল করব, যা ইচ্ছা তাই লিখব। তাই পথ চলা আজ হলো শুরু।